
বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান তাদের কাছে একটি জীবন্ত পুতুল। পুতুল যখন হাসে তখন তারাও হাসে, আবার পুতুল যখন কাঁদে তখন তারাও কাঁদে। — হুমায়ুন আহমেদ
আমার মতে, শুধু প্রথম সন্তান নয়, প্রতিটি সন্তানই বাবা-মায়ের কাছে একেকটি মূল্যবান পুতুল। প্রতিটি বাবা-মা চান তাদের সন্তানের প্রতিটি শখ-আহ্লাদ পূরণ করতে। তবে দায়িত্বশীল বাবা-মা হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো সন্তানের কোনো অন্যায় আবদার পূরণ না করা। অন্যায় আবদার পূরণ করলে সন্তান ভবিষ্যতে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে কষ্ট পাবে।
কেন শিশুর অন্যায় আবদার রক্ষা করা উচিত নয়?
সন্তানের সব আবদার পূরণ করা তার ভবিষ্যতকে বিপদে ফেলার শামিল। যখন বাবা-মা সন্তানের অন্যায় চাহিদা পূরণ করেন, তখন সন্তান মনে করে, যা সে চাইবে, তা-ই সে পাবে। ফলে ভবিষ্যতে যখন বাস্তবতা ভিন্ন হয়, তখন সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
কিভাবে শিশুর আবদার সামলাবেন?
১. বুদ্ধিমত্তার সাথে হ্যাঁ এবং না বলুন
একজন শিশু সারাক্ষণই নানা কিছুর জন্য বায়না করবে। তখন আমাদের অভিভাবকদের মাথায় রাখতে হবে যে পুরো মাসে সন্তানের চাহিদার মাত্র ২৫% পূরণ করা হবে।

- যখন দিবেন: “হ্যাঁ, আমি তোমাকে এটা দিতে পারব।”
- যখন দেবেন না: “দুঃখিত, আমি এটা দিতে পারব না।”
২. আবদার মূল্যায়ন করুন
শিশুর প্রতিটি আবদারকে গুরুত্ব দিন, তবে সবসময় তা পূরণ করবেন না। কোনটা প্রয়োজনীয় আর কোনটা অপ্রয়োজনীয়—সেটা বিচেনা করুন।
৩. নিয়মের মধ্যে আবদার মেনে নিন
বাচ্চার আবদারকে পুরোপুরি এড়িয়ে না গিয়ে একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে মেনে নিন। এতে সে শিখবে যে সব কিছুই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হয়।
শিশুর সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখুন
শিশুর আবদার পূরণ করতে গিয়ে কখনোই তাকে ছোট করে কথা বলবেন না বা অন্যের সামনে অপমান করবেন না। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস নষ্ট হতে পারে। বরং তাকে ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে বুঝিয়ে বলুন কেন তার আবদার পূরণ করা যাচ্ছে না।
শেষ কথা
শিশুর অন্যায় আবদার পূরণ না করে তাকে সঠিক শিক্ষায় বড় করা বাবা-মায়ের দায়িত্ব। শিশুকে ছোট থেকেই শেখাতে হবে যে জীবনে সব কিছু সহজে পাওয়া যায় না। এতে করে সে ভবিষ্যতে একজন দায়িত্বশীল এবং বাস্তবমুখী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।