বুদ্ধি বাড়ানোর হাজারো উপায় আছে। আজকে কথা বলব বুদ্ধি বাড়ানোর সহজ উপায় নিয়ে। যা ফলো করে আমরা আমাদের বুদ্ধি বিকাশ করতে পারি। যার কারনে অন্যদের থেকে আমরা অ্যাডভান্স হতে পারব।
অনেকেই অভিযোগ করেন পড়া মনে থাকে না বা কোন কিছুই মনে থাকে না। গবেষণায় ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ব্রেনকে ভালো রাখার যে বিষয়গুলো সামনে উঠে এসেছে আজকে সেই সম্পর্কে জানব।
কাজটাকে আমরা ২ভাবে ভাগ করে ফেলব। প্রথমত, আমাদের ব্রেনের ব্যায়াম করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্রেন ভালো রাখে যেসব খাবার সেগুলো আমাদের খেতে হবে। তো শুরু করা যাক বুদ্ধি বাড়ানোর সহজ উপায় নিয়ে।
নামাজ ও কুরআন তেলাওয়াত
একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের দৈনিক ৫ওয়াক্ত নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক। নামাজে যখন আমরা সুরা তেলাওয়াত করি তখন আমাদের ব্রেনে একধরনের ওয়েব তৈরি হয়। যা আমাদের বুদ্ধি বাড়াতে সহযোগিতা করে। এছাড়াও কুরআন তেলাওয়াত করলে বা শুনলে ব্রেনে ওয়েব তৈরি হয়।

কল্পনা করাও বুদ্ধি বাড়ানোর সহজ উপায় হতে পারে
আমরা যখন বাসা থেকে কোথাও বের হবো তার আগে আমাদের কল্পনা করতে হবে যে, রাস্তায় আমরা কি কি দেখতে পারি? রাস্তায় বের হবার পরে সে জিনিস গুলো আপনি মিলিয়ে দেখবেন, সেগুলো যদি নাও মিলে তবুও অসুবিধা নেই। কারণ এই যে আপনি কল্পনা করলেন এতে আপনার ব্রেনের ট্রেনিং হয় এবং ব্রেন ইমপ্রোভ হয়।
সমস্ত ইন্দ্রিয় একসাথে ব্যবহার করা
যেমন ধরেন আমরা যখন কোনো রেস্টুরেন্টে যাই তখন আপনাকে যেই খাবার টা দেয়া হলো, আশেপাশের পরিবেশ, শব্দগুলো আপনার কাছে নতুন। আপনি নতুন পরিবেশ হাত দিয়ে স্পর্শ করে দেখছেন, নতুন খাবারের স্বাদ নিচ্ছেন, নতুন শব্দ কানে আসছে। এটা মূলত আমার নিজের বানানো একটা উদাহরণ।
তাছাড়া আপনি নিজেও চিন্তা করতে পারেন যে কিভাবে আপনি আপনার পাঁচটি ইন্দ্রিয় একসাথে ব্যবহার করতে পারেন।
ব্রেন ভালো রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ঘুম
এ কজন পূর্নবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে অন্তত ৬/৮ ঘন্টা ঘুমানো উচিত। আর তা হতে হবে সঠিক নিয়মে। মানে হচ্ছে আমাদের কে ঘুমাতে হবে রাত ৯টা থেকে ১০ ভিতরে এবং উঠতে ভোরে। তাহলেই আমাদের ব্রেন যথাযথ ভাবে রিচার্জ
হবে।
ভালো রাখে যেসব খাবার
আমাদের ব্রেনের ৬০%ই ফ্যাট দিয়ে তৈরি। এই চর্বির অর্ধেক টা তেই আছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এ্যাসিড। তাই বলায় যায়, ওমেগা ৩ ফ্যাটি এ্যাসিড আমাদের ব্রেনের জন্য খুবই ভালো। চর্বি জাতীয় মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এ্যাসিড রয়েছে। যেগুলো আমাদের ব্রেনের জন্য খুবই উপকারী।
যেমন: রুপচাঁদা, লইট্টা, ভেটকি, লাক্ষা, ইলিশ নোনাপানির মাছ।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বাদাম আমাদের ব্রেনকে ইমপ্রুভ করতে সাহায্য করে তাছাড়া বাদাম হার্টের জন্যও খুবই উপকারী। ব্রেনকে ভালো রাখার জন্য ডিমের গুরুত্ব অনেক। এছাড়া গ্রিন-টি ব্রেনকে সক্রিয় ও ইমপ্রুভ করতে সাহায্য করে।
ব্রেন ভালো রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস এবং জীবনধারা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো রাখার কয়েকটি কার্যকরী উপায়
১. পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
- ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: মাছ, আখরোট, চিয়া সিড।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার: ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, ডার্ক চকলেট।
- ভিটামিন ও খনিজ: সবুজ শাকসবজি, বাদাম, ডিম।
২. নিয়মিত ব্যায়াম
- দৈনিক ৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম ব্রেনের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।
- হাঁটা, যোগব্যায়াম বা সাইকেল চালানো বিশেষভাবে কার্যকর।
৩. মানসিক চাপ কমানো
- ধ্যান ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
- নিজেকে পজিটিভ চিন্তায় ব্যস্ত রাখা এবং মনোযোগ ধরে রাখা।
৪. ভালো ঘুম
- প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম ব্রেনের ফাংশন ঠিক রাখে।
- ঘুমের রুটিন মেনে চলুন।
৫. মানসিক চর্চা
- নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন, যেমন নতুন ভাষা বা সৃজনশীল কোনো কাজ।
- পাজল, দাবা বা সুধোকুর মতো গেম খেলুন।
৬. সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা
- পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান।
- নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হন এবং আলোচনা চালিয়ে যান।
৭. পর্যাপ্ত পানি পান
- হাইড্রেটেড থাকা ব্রেনের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
৮. স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ
- দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারে সময় না কাটিয়ে ব্রেক নিন।
৯. ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
- এগুলো ব্রেনের কার্যক্ষমতা ধ্বংস করে দিতে পারে।
এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে ব্রেন দীর্ঘমেয়াদে ভালো থাকবে এবং স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ শক্তি বাড়বে।
স্বাস্থ্য বিষয়ক কিছু বইয়ের লিংক
- আধুনিক অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা
- বিচিত্র স্বাস্থ্য প্রসঙ্গ
- স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশিয় ফল পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
- মেরুদণ্ডের রোগ ও দুর্ভোগ
- স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্ক

শেষ কথাঃ
আজকে আমরা জানার চেষ্টা করলাম বুদ্ধি বাড়ানোর সহজ উপায় গুলো নিয়ে। মোট কথা আমাদের ব্রেন আমরা ভাবেই বাড়াতে পারি। এর জন্য তেমন কঠিন কিছু করার দরকার নেই। শুধু লাইফ স্টাইলের ভিতরে কিছু চেঞ্জ আনলেই হবে। যেমনঃ তাড়িতড়ি ঘুমাতে যাওয়া, সুষম খাবার গ্রহণ করা, শারিরীক পরিশ্রম করা, খেলাধ-ধুলা করা, বই পড়া, কুরআন তেলাওয়াত করা বা তেলাওয়াত শোনা ইত্যাদি।