বর্ষায় পানিবাহিত রোগ: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

বর্ষায় পানিবাহিত রোগ কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

বর্ষাকালে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ

বাংলাদেশ একটি ষড়ঋতুর দেশ। ছয়টি ঋতুর মধ্যে বর্ষাকাল অন্যতম। যদিও বর্ষাকাল অনেকের প্রিয় ঋতু, তবে এই সময়ে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। টাইফয়েড, ডাইরিয়া, কলেরা, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ছত্রাক সংক্রমণ এবং জন্ডিস বর্ষাকালে সাধারণত বেশি দেখা যায়।

পানিবাহিত রোগের কারণ

অনেকেই মনে করেন, শুধুমাত্র দূষিত পানি পান করলেই এসব রোগ হয়। তবে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। দূষিত পানিতে গোসল করা, রান্নার কাজে ব্যবহার করা কিংবা অন্যান্য কাজে লাগানো থেকেও পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুরা এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হয় কারণ তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম।

পানিবাহিত রোগের লক্ষণ

বর্ষায় পানিবাহিত রোগের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
✅ উচ্চ মাত্রার জ্বর
✅ বমি বমি ভাব ও বমি হওয়া
✅ তীব্র ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা
✅ পেট ব্যথা ও পানিশূন্যতা
✅ চর্মরোগ বা ছত্রাক সংক্রমণ
✅ প্রচণ্ড ক্লান্তি ও দুর্বলতা

বর্ষায় পানিবাহিত রোগ কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে করণীয়

বিশুদ্ধ পানি পান করুন – ফোটানো বা ফিল্টার করা পানি ব্যবহার করুন।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন – বাড়িঘর পরিষ্কার রাখুন ও আশপাশে পানি জমতে দেবেন না।
এডিস মশার বিস্তার রোধ করুন – জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলুন।
বাইরের খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন – এসব খাবারে সহজেই জীবাণু প্রবেশ করতে পারে।
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন – হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি।

শেষ কথা

বর্ষাকাল যেমন প্রকৃতির জন্য আশীর্বাদ, তেমনি এটি বিভিন্ন পানিবাহিত রোগেরও কারণ হতে পারে। তাই সতর্কতা ও সচেতনতা অবলম্বন করাই হলো সুরক্ষার মূল উপায়। যদি কেউ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন!

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *