বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস
ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মনে হলো বুকের ওপর কেউ বসে আছে, শ্বাস বন্ধ করে দিচ্ছে—আপনি নড়াচড়া করতে চাইছেন, কিন্তু শরীর যেন পাথরের মতো ভারী হয়ে গেছে। আমাদের দেশে একে “বোবায় ধরা” বলা হয়। তবে বিজ্ঞান একে বলে “স্লিপ প্যারালাইসিস”। আসুন জেনে নিই কেন বোবায় ধরে এবং এর সমাধান কী।

বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস কেন হয়?
বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে মস্তিষ্ক জেগে ওঠে, কিন্তু শরীর তখনো ঘুমের অবস্থায় থাকে। ফলে শরীরের পেশিগুলো সাময়িকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
- REM ঘুম চক্রের ব্যাঘাত:
- ঘুমের সময় আমাদের দেহ REM (Rapid Eye Movement) পর্যায়ে প্রবেশ করে, যেখানে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, কিন্তু শরীর নিস্তেজ থাকে।
- হঠাৎ করে মস্তিষ্ক জেগে গেলেও শরীরের পেশিগুলি তখনো সক্রিয় না থাকায় এই অবস্থা তৈরি হয়।
- মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ:
- ডিপ্রেশন বা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ স্লিপ প্যারালাইসিস ঘটাতে পারে।
- অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস:
- ঘুমের নির্দিষ্ট রুটিন না মানলে বা পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- জেনেটিক কারণ:
- পরিবারে কেউ এই সমস্যায় ভুগলে আপনার মধ্যেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- ড্রাগ বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- বিশেষ করে স্নায়ুবিক ওষুধ বা নেশাজাতীয় পদার্থ ব্যবহারে স্লিপ প্যারালাইসিস হতে পারে।
বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিসের লক্ষণ
- শরীর নড়াচড়া করতে অক্ষম হওয়া।
- বুকের ওপর চাপ অনুভব করা।
- শ্বাসকষ্ট বা দম বন্ধ হওয়ার অনুভূতি।
- মনে হতে পারে কেউ বা কিছু আক্রমণ করছে।
- কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা।
বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস থেকে বাঁচার উপায়

১. ঘুমের সঠিক রুটিন মেনে চলুন:
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমান এবং উঠুন।
- রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
২. মানসিক চাপ কমান:
- ধ্যান ও যোগব্যায়াম করুন।
- ইতিবাচক চিন্তা ও মানসিক স্বস্তি বজায় রাখুন।
৩. ড্রাগ বা নেশাজাতীয় পদার্থ এড়িয়ে চলুন:
- মাদকাসক্তি বা নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার বন্ধ করুন।
৪. নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন:
- শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য হালকা ব্যায়াম করুন।
৫. প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
- যদি সমস্যাটি ঘন ঘন হয়, একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
উপসংহার
বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটি মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত ঘুমের কারণে হতে পারে। তাই সঠিক ঘুমের রুটিন, মানসিক চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চললে এর সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।