
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হলে সাধারণত বুকে জ্বালাপোড়া, মুখে টক ভাব, বমি ভাব এবং পেট ফাঁপা লাগে। এই সমস্যার থেকে মুক্তি পেতে আমরা অনেকেই বিভিন্ন ওষুধ সেবন করি। তবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে গ্যাস্ট্রিকের সমাধান পাওয়া সম্ভব এবং এগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কার্যকর।
গ্যাস্ট্রিকের কারণ ও লক্ষণ
কারণ:
১. অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া।
২. অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস।
৩. দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা।
৪. বেশি তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ।
৫. অতিরিক্ত চা বা কফি পান।
লক্ষণ:
- বুকে জ্বালাপোড়া।
- মুখে টক ভাব।
- বমি ভাব বা বমি।
- পেটে অস্বস্তি ও ফাঁপা ভাব।

গ্যাস্ট্রিকের সহজ ঘরোয়া সমাধান
১. বিছানার মাথার দিক উঁচু করে শোয়া
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তির সহজ উপায় হলো বিছানার মাথার দিক একটু উঁচু করে শোয়া। দুটি বালিশ ব্যবহার করে মাথা উঁচু করে শোয়া অভ্যাস করলে এসিড রিফ্লাক্স কমে।
২. সমস্যাযুক্ত খাবার বর্জন করা
অনেকেই গ্যাস্ট্রিক হলে একসাথে অনেকগুলো খাবার বাদ দিয়ে দেন। বরং উচিত হলো যে খাবারে সমস্যা শুধু তা বাদ দেওয়া। যেমন: ঝাল-মশলাযুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয়।
৩. ঘুম ও খাওয়ার মাঝে বিরতি রাখা
খাওয়া শেষ করেই ঘুমিয়ে পড়া গ্যাস্ট্রিকের অন্যতম কারণ। খাওয়ার পরে অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে ঘুমানো উচিত। এতে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।
৪. পরিমিত খাবার গ্রহণ
একসাথে অনেক খাবার খেয়ে ফেলা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ায়। তাই পরিমিত খাবার খান এবং প্রয়োজনে ছোট ছোট ভাগে খাবার গ্রহণ করুন।
৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
ওজন বেশি থাকলে গ্যাসের সমস্যা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

গ্যাস্ট্রিক প্রতিরোধে করণীয়
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করুন।
- প্রচুর সবজি ও তাজা ফল খান।
- ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
শেষ কথা
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হলে দুশ্চিন্তা না করে উপরের ঘরোয়া সমাধানগুলো অনুসরণ করুন। ঘরোয়া উপায়গুলো সহজ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কার্যকর। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাকে দূরে রাখবে।