ভূমিকা
মিষ্টি জাতীয় খাবার পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। খাবার খাওয়ার পরে আমরা সাধারণত ডেজার্ট বা মিষ্টি জাতীয় কিছু খুঁজি, যেখানে চিনির উপস্থিতি থাকে। তবে এই চিনি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর যা আমরা হয়তো টেরই পাচ্ছি না।

চিনি: নীরব ঘাতক
চিনি হলো আমাদের শরীরের জন্য এক প্রকার বিষের মতো যা ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সাদা চিনি মূলত রিফাইন করা হয়, যার ফলে এতে কোনো খনিজ লবণ অবশিষ্ট থাকে না। অনেকেই মনে করেন লাল চিনি তুলনামূলক ভালো, কারণ এতে ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম বিদ্যমান থাকে। তবে অতিরিক্ত লাল চিনি খাওয়াও ক্ষতিকর।
অতিরিক্ত চিনি খেলে শরীরে যে ১০টি ক্ষতি হতে পারে:
১. হার্টের সমস্যা: অতিরিক্ত চিনি হার্টের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
২. ঘুমের সমস্যা: চিনির কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
৩. বয়সের ছাপ: শরীরে দ্রুত বয়সের ছাপ পড়ে।
৪. দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা: মস্তিষ্কে চিনির প্রভাব উদ্বেগ বাড়ায়।
৫. লিভারের সমস্যা: লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যায়।
6. ডায়াবেটিস: অতিরিক্ত চিনি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়।
৭. হজমের সমস্যা: হজমের প্রক্রিয়ায় গলদ দেখা দেয়।
৮. ওজন বৃদ্ধি: ওজন দ্রুত বেড়ে যায়।
৯. বাতের ব্যথা: জয়েন্টে ব্যথা এবং বাতের সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
১০. কিডনিতে পাথর: অতিরিক্ত চিনির কারণে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ে।

চিনি গ্রহণের নিরাপদ পরিমাণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন নারী দৈনিক ২৫ গ্রাম এবং একজন পুরুষ ৩৬ গ্রাম চিনি গ্রহণ করতে পারেন। এর বেশি চিনি গ্রহণ শরীরে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই সঠিক পরিমাণে চিনি খাওয়ার প্রতি সচেতন থাকতে হবে।
শেষ কথা
চিনি তামাকের মতোই ক্ষতি করে, এমনকি চিনিকে সাদা বিষ বলা হয়। তাই অযথা চিনি গ্রহণ না করাই উত্তম। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।